1. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  2. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
নাগরিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের হাতিয়ার তথ্য অধিকার আইন
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

নাগরিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের হাতিয়ার তথ্য অধিকার আইন

মো. আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৮ বার পঠিত

যেকোন দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে জনগণ দেশের সকল ক্ষমতার মালিক। অর্থাৎ দেশের মালিক জনগণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয় জনগনের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে। এই কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য জনগণ নিজেদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে। আর এই নির্বাচিত প্রতিনিধি সকল বিভিন্ন দলের অথবা স্বতন্ত্র ব্যনারে সংগঠিত একটি কাঠামোর মাধ্যমে জনগনের কল্যানের জন্য কাজ করে। সম্মিলিত সমন্বিত এই কাঠামোকেই আমরা বলি সরকার।

এই সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় অংশ ব্যায় নির্বাহ করা হয় জনগনের দেয়া করের টাকায়। তাই সরকারের বিভাগ গুলো জনগনের টাকা সঠিকভাবে খরচ করছে কি না, অথবা কোন দুর্নীতি হচ্ছে কি না, তা জানার অধিকার ও জনগনের রয়েছে। এক্ষেত্রে তথ্যে প্রবেশাধিকার দেশের সকল নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তথ্যে নাগরিকের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রে জনগনের মালিকানা সু-প্রতিষ্ঠিত এবং ক্ষমতায়ন সু-নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে মানুষের চিন্তা চেতনা, বিবেক এবং বাকস্বাধীনতাকে অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আবার তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মকান্ড কে জনগনের জানার অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন জনগনের কল্যাণ সাধনে প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মকান্ডকে গণমূখী, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে একটি মাইল ফলক। তাই বলা যায়, নাগরিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো তথ্য অধিকার আইন।

তথ্যে অবাধ প্রবেশ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সেবা প্রদানকারী এবং সেবা গ্রহীতা উভয়ের মধ্যে পারস্পারিক বিশ^াস এবং আস্থার ভিত্তি মজবুত করে সেতু বন্ধন তৈরী করে। এই আইনের মাধ্যমে একজন নাগরিক যেমন তার কাঙ্খিত তথ্য পেতে পারেন অপর দিকে প্রতিষ্ঠান গুলো যথাযথ তথ্য প্রকাশ ও সরবরাহ করে নাগরিকের ভুল ধারনা এবং অবিশ^াস দুর করে আস্থা অর্জনে সক্ষম হতে পারে।

আমরা বাংলাদেশের নাগরিক তাই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা থেকে কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার জন্য দেশের তথ্য অধিকার আইনের দিক সমুহ সর্ম্পকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন জানার পূর্বে একটু পিছনে ফিরে দেখলে ভালো হয়। তথ্য অধিকার আইনের ইতিহাস ও ধারাবাহিকতা প্রায় আড়াইশ বছরের। ১৭৬৬ সালে সুইডেনে আইন পাসের মধ্য দিয়ে সরকারি তথ্যে জনগনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আনুষ্ঠানিকতার যাত্রা শুরু হয়। এর ১২২ বছর পর ১৮৮৮ সালে দ্বিতীয় দেশ কলম্বিয়া তথ্য অধিকার আইন পাস করে। ১৯৫১ সালে তৃতীয় দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ড তথ্য প্রাপ্তীর আইন পাস করে। আর ৪র্থ দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রাপ্তীর আইন জারি করে। এরপর থেকেই একে একে উন্নত দেশসমুহ একই ধরনের আইন পাস করতে থাকে। জানা যায়, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিশে^র ১৩টি দেশ, নব্বইয়ের দশকে ১৯টি দেশ এবং বিংশ শতাব্দীতে এসে ৮৪টি দেশ তথ্য অধিকার আইন পাস করেছে। এখানে একটি বিষয় আমাদের জেনে রাখা দরকার যে জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তথ্য অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘তথ্য অধিকার হলো একটি অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার, যা জাতি সংঘ কর্তৃক গৃহীত অপরাপর অধিকার অর্জনের পরশপাথর স্বরুপ’’ এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিকভাবে নাগরিকের তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো জাতি সংঘের মানবাধিকারের ঘোষনাপত্র যা ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে ৩৯ এর ১ উপ অনুচ্ছেদে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে এবং ৩৯ এর ২ উপ অনুচ্ছেদে- কিছু বাধা নিষেধের কথাও বলা হয়েছে। সেটিও আবার নাগরিকের এবং রাষ্ট্রের কল্যানের জন্যই। যেমন- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রেসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনাসহ ইত্যাদি বিষয়ে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তি সঙ্গত বাধা নিষেধ।

সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই তথ্য অধিকার মৌলিক অধিকারসমুহের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সাল থেকেই তথ্য অধিকার আইন জারির দাবী উঠতে থাকে । প্রথম মূলত সাংবাদিকরাই এই দাবী উত্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন এতে সমর্থন জোগায়। ১৯৮৩ সালেই তৎকালীন প্রেস কাউন্সিল তথ্য অধিকার আইন জারির সুপারিশ করে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে গঠিত আইন কমিশন তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের সিন্ধান্ত গ্রহণ করে ২০০৩ সালে আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করে সরকারের নিকট উপস্থাপন করে। অপরদিকে দেশের সাংবাদিকমহল, বেসরকারি সংগঠন, সুশীল সমাজ. আইনবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া অধিক গুরুত্বের সাথে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের পক্ষে প্রচার প্রচারনা চালাতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে প্রথমে অধ্যাদেশ আকারে ২০০৮ সালে এবং পরে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস করা হয়।

একনজরে জানতে হলে মনে রাখা দরকার ২০০৮ সালে ২০ অক্টোবর তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ জারি, ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ জাতিয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন পাস, একই বছরের ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, ৬ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ, ১ জুলাই আইনটি পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় এবং কার্যকরের দিন অর্থাৎ ১ জুলাইয়ে তথ্য কমিশন গঠিত হয়।

ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তথ্যের প্রচার এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ করা যায়। আমরা জেনে অথবা না জেনেই বিভিন্ন সময় একে অপরকে ইর্ষান্নিত আক্রমণ করে ভূল তথ্য উপস্থাপন করে থাকি যা আমাদের জন্য পায়ে কুড়াল মারার মতো। অনেক সময় মামলা সংক্রান্ত দলিল পত্রে লেখনির ক্ষেত্রে একটি তথ্যের সাথে অন্য আর একটি তথ্যের মিল থাকে না ফলে মামলার গুরুত্ব নস্ট হয়ে অপরাধীর সঠিক বিচার হয়না অথবা সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করার কারনে নিরাপরাধ ব্যক্তি শাস্তি ভোগ করতে পারে। তাই তথ্য প্রচার, সংগ্রহ এবং এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামনে পিছনে ভেবে চিন্তে বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

তথ্যেও অবাধ প্রবাহ এবং জনগনের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে এবং ক্ষমতায়নের জন্য প্রণীত হয়েছে তথ্য অধিকার আইন। রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক যদি জনগণ হয় তবে তথ্যে প্রবেশাধিকারের জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে স্বপ্রনোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশ সীমিত আকারে অথবা কোথাও শুন্যবস্থায় রয়েছে। দেখাযায় কর্মকর্তা/কর্মচারীর কর্মস্থল বদলি হলেও কোন কোন বিভাগ তাদের ওয়েব সাইটে তথ্য প্রদান কর্মকর্তা অথবা আপীল কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর সঠিক সময়ে হালনাগাদ করে না। এরফলে নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে হয়রানি হতে হয়। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি অথবা বেসরকারি প্রত্যেকেই নাগরিকের সেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই জনসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে জনগনের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত হলে সর্বক্ষেত্রের কর্মকান্ডে দুর্নীতির সম্ভাবনা হ্রাস পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইনের উপর স্পষ্ট ধারনা থাকা বাঞ্চনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews