1. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  2. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
সাদুল্লাপুরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৮:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

সাদুল্লাপুরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৮ বার পঠিত

এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে কদর ছিলো মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রীর। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির সামগ্রী প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বাপ-দাদার পেশাকে আঁকড়ে ধরে এখনো কয়েকটি পরিবার তৈরি করে চলছেন কাঁদা মাটির পণ্যসামগ্রী। বৃহস্পতিবার (২৯এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর (পালপাড়া) গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটির পণ্য থালা-বাটি, সরা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, প্রভৃতি জিনিসপত্র তৈরির চিত্র। এসময় আপন খেয়ালে হাতের কারচুপিতে কৃষ্ণারাণী নামের এক নারী তৈরি করছিলেন মাটির জিনিসপত্র।

জানা যায়, দেড় দশক আগে রসুলপুরের পালপাড়া এলাকাস্থ প্রায় ২শ পরিবারের একমাত্র পেশা ছিল মাটির পণ্যসামগ্রী তৈরি। এ পেশা দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। চলছিল তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় কদর কমেছে এ শিল্পের। যার ফলে এ পেশা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে অধিকাংশ পরিবার। এখন মাত্র ৭টি পরিবার কোনোমতে ধরে রেখেছে তাদের বাপ-দাদার এ পেশা।

মৃৎশিল্পের কারিগররা জানায়, বিভিন্ন স্থান থেকে দোআঁশ মাটি সংগ্রহ করতে হয়। এসব মাটিও কিনতে হয় টাকা দিয়ে। এক ভ্যান মাটির দাম ৫’শ টাকা। এসব মাটি দিয়ে থালা-বাটি, সরা-বাসন, পুতুল, ঘোড়াসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে থাকেন। একটি চাকের মাধ্যমে কাদামাটিতে বানানো হয় পণ্যসামগ্রী। এরপর রোদে শুকিয়ে আগুনে পোড়ানো হয় ভাটায়। সেখান থেকে বের করে রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলায় বিশেষ পণ্যগুলো। সেগুলো বাজারজাত করা হলে নিতে আসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় নিজেরাই ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রি করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। এতে যেটুকু আয়-রোজগার আসে, তা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

মাটির পণ্য তৈরির কারিগর তপন চন্দ্র পাল জানায়, অতীতে গ্রাম-গঞ্জে মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রীর কদর ছিল অনেক বেশি। এসব পণ্য শোভা পেত প্রত্যেক বাড়িতে। এছাড়া গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার দ্রব্যাদি, পুতুল, খেলনা, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ফুলের টপসহ অসংখ্য জিনিস আজও তৈরি করে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে ইদানিং প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন তা হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি আরও বলেন, এখন এটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত জরুরি। কেননা, সরকার যদি মৃৎশিল্প গোষ্ঠীকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে পারে, তাহলে এ শিল্পে টিকে থাকা সম্ভব।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলা বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে মৃৎশিল্পীরা এ পেশা থেকে ছিটকে পড়ছে। এরই মধ্যে করোনার প্রণোদনার বরাদ্দ পেলে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews