1. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  2. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন শত শত বাড়িঘর
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন শত শত বাড়িঘর

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ৬৪ বার পঠিত
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেন রাক্ষসী রূপ নিয়েছে তিস্তা। ক্ষুধার্ত বাঘের মতো নিমিশেই গিলে খাচ্ছে বাড়িঘর। ভাঙনের আওয়াজে থেমে থেমে কেঁপে উঠছে তিস্তার পাড়। বসতবাড়ি হারিয়ে মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে দিশেহারা হয়ে পরছেন ভাঙ্গনের শিকার পরিবারের মানুষগুলো। পরিকল্পনার অভাব আর সময়মতো কাজ না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন ভাঙন কবলিতদের পুর্ণবাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এসব এলাকার হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়। কিন্তু এ বছর বর্ষা আসার অনেক আগেই এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। কয়েকদিনের ব্যবধানে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীর পার ভাঙতে শুরু করেছে। এর মধ্যে কাশিম বাজার এলাকায় ভাঙনের মাত্রা বেশি। ভাঙনের তীব্রতায় গত কয়েকদিনে শত শত বাড়িঘর ও কয়েক’শ একর জমি ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে তিস্তার পেটে। নিমিশেই তছনছ হচ্ছে সাজানো গোছানো সংসার। বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো রোদ, বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এতে ভাঙনের শিকার হয়েছেন ৫০ পরিবারের প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ। অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে নিরাপদ স্থানে। হুমকির মুখে রয়েছে গেন্দুরাম আশ্রয়ণ প্রকল্প। ভাঙনের মুখে রয়েছে কাশিমবাজারের অংসখ্য দোকানঘর। এমনকি তিস্তা পাড়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও গাছপালা ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো স্থানীয় নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাজিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনের শিকার এইসব মানুষ আবাসন, নিরাপদ পানি এবং পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সদ্য ভাঙনের শিকার নিঃস্ব আঃ খালেক কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘কাই (কে) জানে এতো আগে (তারাতারি) নদী ভাঙ্গবে। যদি যাননু হয় (জানতাম) তাহইলে (তাহলে) মেয়ের বাড়িতে সংসারের সউগ (সব) মালামাল থুনু হয়।’ ভাঙনের শিকার জামিউল, ফাতেমা, জেলেখাসহ অনেকে বলেন, নদী ভাঙনে আমরা সব হারিয়েছি এখন থাকার জায়গা নেই। বড় বিপদে আছি তবুও কেউ খবর নেয়না। আমরা ভাঙন রোধ চাই, চাই থাকার জায়গা। নাজিমাবাদ বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম রঞ্জু জানান, ভাঙনের স্বীকার পরিবারগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেরই অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিবার বলেছি। এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি।
ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি বলেন, এবার অসময়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী পাড়ের মানুষের কোন ধরনের প্রস্তুতি ছিলোনা। ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর সহায্যের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চলছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। ভাঙন রোধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। তাদেরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছি।’ গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, কাশিম বাজার এলাকা আমাদের দায়িত্বে নয়। এ জায়গাটা কুড়িগ্রাম জেলার অধীনে। কাজেই এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews