1. admin3@gonomanuserkhobor.com : Admin3 :
  2. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  3. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
  4. latashiasievier7627@hidebox.org : latishavonstiegl :
  5. miloblakeley1431@1secmail.org : liammcfarland27 :
  6. eipbtrdplig@badred.pw : malissadealba :
  7. bettecissell@hidebox.org : stevenuzzo70722 :
  8. cssdrtkbtav@ceswyn.link : tamieo9013313440 :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসকেএস ইন্

মো. আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১

প্রাকৃতিক বৈচিত্র ও সৌন্দর্য মানুষের মনে সবসময়ই স্বতন্ত্র অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। সাথে পৃথিবীর নির্মল পরিবেশকেও করে তোলে চাহিদা সমৃদ্ধ। কোথাও কোথাও প্রকৃতি তার নিজ আবাহনে পরিবেশকে নিজের করে গড়ে তুলে মানুষের মনের আনন্দের বহিঃ প্রকাশ করতে সহযোগিতা করে। প্রকৃতি মুগ্ধ এবং ভ্রমণ পিপাষু মানুষ সময়-সুযোগ পেলেই পর্যটনের নেশায় ঘুরে বেড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অথবা দেশের বাহিরে। তবে ভ্রমণ স্থানের সৌন্দর্য যদি হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ, দেশি বিদেশি গাছ-পালায় ঘেরা, প্রাণী অভয়ারণ্য এবং নির্মল বায়ু প্রবাহ সমৃদ্ধ নিস্তব্ধ ভুমি তখন সেই আনন্দের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টিভি দেখা এবং বই পড়ার পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমেও মানুষ জ্ঞান অর্জন করতে অভ্যস্ত। ভ্রমণের মাধ্যমে জ্ঞানের পাশাপাশি বিনোদনের চাহিদাও পুরণ করতে আগ্রহী।

তবে করোনার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের বিচরণ অনেকটাই কমে গেছে। কিছুটা ভাটা পড়েছে পর্যটন বাণিজ্যে। বিরুপ পরিস্থিতির মাঝেও গাইবান্ধার পর্যটন শিল্পে অনন্য এক অনুভুতির যোগান দিয়ে যাচ্ছে এসকেএস ইন্। ‘এসকেএস ইন্ এ রিসোর্ট ফর রিক্রিয়েশন’ এই শ্লোগান বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এসকেএস ইন্ বিচিত্র এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে চলছে। আধুনিক শৈল্পিক রুচি সম্মত কারুকাজে সমৃদ্ধ হয়ে এসকেএস ইন্ চার তারকার (****) মর্যাদা নিয়ে জেলার পরিচিতিকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে চলছে। উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলা রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব কোনে অবস্থিত। ২১৭৯.২৭ বর্গকিঃ মিঃ দৈর্ঘের এই জেলার প্রায় ১০৭.৭ বর্গ কিঃ মিঃ নদী ও চরভুমি। জেলার শহরাঞ্চলের হাজারো মানুষ নদী ও চরের জীবনচিত্র আর নিস্তব্ধতা দর্শনের মাধ্যমেই পর্যটনের স্বাদ গ্রহণ করে থাকে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন ঐতিহ্যের কিছু প্রত্ন নিদর্শন থাকলেও প্রয়োজনীয় সংরক্ষণের অভাবে তা পরিপূর্ণ পর্যটনের পরিবেশ নিয়ে গড়ে উঠতে পারেনি তা যেমন সত্য সুন্দর পরিবেশের সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে সেটিও তেমন সত্য। যেকোনো দেশ অথবা জেলার জন্য পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ একটি লাভজনক ব্যাবসা। সমীক্ষায় জানা গেছে, যেকোনো বর্ধনশীল আয়ের রপ্তানি বাণিজ্যের চেয়েও বেশি লাভজনক এই পর্যটন শিল্প। যদি সেটা হয় সু-পরিকল্পিত, মানব চহিদা সমতুল্য এবং সুদৃশ্য। বেসরকারি খাতে সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এসকেএস ফাউন্ডেশন২০১৬ সালে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিঃ মিঃ দক্ষিণ পশ্চিমে সদর উপজেলার আওতায় রাঁধাকৃষ্ণপুর গ্রামে গ্রামীণ সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয় এসকেএস ইন্।

শুরুতে এর নাম এসকেএস রাধাকৃষ্ণপুর ট্রেনিং সেন্টার হলেও বিস্তৃতির সাথে সাথে নাম এবং মর্যাদারও পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে এসকেএস ইন্ নাম ধারণ করে চার তারকার মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। শুরুতে প্রায় ২০ বিঘা জমির উপর যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ৫০ বিঘার অধিক জমির উপর সু-পরিকল্পিত নক্সায় নির্মিত। দিন রাত জেলার অভ্যন্তর এবং বাহির থেকে আগম দক্ষ কারিগর দ্বারা শৈল্পিক শোভা বর্ধনের কাজ চলমান। এবার জেনে নেয়া যাক কি আছে এই সৌন্দর্যের মেগা পরিকল্পনায়। বিগত দিনে সামান্য চাহিদার মাত্রা নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ভ্রমণ দর্শনার্থী, দেশি বিদেশী কর্পোরেট অফিস, বিভিন্ন বিদেশি এজেন্সী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিচরণ নিরিখেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এর কলেবর।

মেগা প্রকল্পে রয়েছে জরুরি প্রয়োজনে হ্যালিকপ্টার ওঠা নামার জন্য হ্যালি প্যাড, খেলার জন্য বাস্কেট, টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল এবং ফুটবল খেলার মাঠ। আধুনিক রুচিসম্মতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে অতিথি অভ্যর্থনা লবি। লবিতে থাকছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টেবিল টেনিস সুবিধা। রুমে অতিথিদের জন্য আছে আয়রন বিহীন কমার্শিয়াল ট্রেটমেন্ট ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান্ট, বয়স অনুপাতে নির্ধারিত গভীরতা পরিমাপে সুইমিং পুল এবং জীম কর্ণার। থাকছে শিশুদের জন্য গরম জলের আলাদ ওয়াভ পুল। প্রায় ৩৭০ মিটার দৈর্ঘের খাল এবং খালের উপর ঝুলন্ত সেতু যা হবে খাগড়াখড়ির ঝুলন্ত সেতুর আদলে গড়া। রিসোর্টের পূর্ব কোণে গড়ে তোলা হচ্ছে মিনি চিড়িয়াখানা যেখানে দেশি বিদেশি রং বেরংয়ের পাখির সমারোহ দেখা যাবে। আরও থাকবে সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ, খরগোশ, বন মোরগ আর সৌন্দর্য বর্ধনে পেখম মেলা ময়ুর পাখি।

খালে থাকবে মাছ শিকারের ব্যবস্থা। ভ্রমণ অতিথিরা সংযুক্তি মুল্যে যে কেউ নৌকায় উঠে অথবা কটেজে বসেই মাছ শিকার করতে পারবেন। খালের উপরে সববয়য়ের দর্শনার্থীর বেড়ানোর জন্য নৌকা। পরিকল্পনায় আছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত প্রেসিডেন্ট কটেজ। কটেজ হতে অতিথির যাতায়াতের জন্য থাকবে চায়না থেকে আমদানীকৃত অত্যাধুনিক পরিবহন (বাগী) সুবিধা। ২৪ ঘন্টার রেস্টুরেন্টে থাকছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফে বার, বাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, জুস বার এবং বারবিকিউ সুবিধা যা অর্ডার দেয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই গরম গরম সরবরাহের সুযোগ। প্রশিক্ষণ, বিয়ে, জম্মদিনসহ যেকোনো ধরনের কনফারেন্স এর জন্য মাল্টিমিডিয়া ও অটো সাউন্ড সিস্টেমসহ হল রুম সুবিধা ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। শিশুদের জন্য নানা ধরনের জীব প্রাণীর স্থির ভাস্কর্য, লুকোচুরি খেলা আর দোলনা সমৃদ্ধ চাইল্ড কর্ণার।

দৃশ্যমান রয়েছে বিভিন্ন রংয়ের আলোকসজ্জা দিয়ে জল ফোয়ারা ও কৃত্রিম ঝর্ণা। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য পুকুর পাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিত কাঠের দোলনা। আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে দুই বেড/কাপল বেড সমৃদ্ধ ডিলাক্স রুম এবং সিঙ্গেল ও ডাবল রুমের ওয়াটার কটেজ। ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং ডিটিএইচ সংযোগের মাধ্যমে স্মার্ট এলইডি টিভি দেখার সুবিধা। সরকারি বিদ্যুৎ সুবিধার পাশাপাশি নিজস্ব জেনারেটর সুবিধা। অতিথিদের মনের চাহিদা নিরিখে উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, লালনগীতিসহ স্থানীয় লোকোজ সংগীতের বাংলা ঢোল বাজনায় বাউল গান। প্রতিদিন অতিথি দর্শকদের মনে আনন্দ দানে সন্ধা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে খোলা লোক সংগীতের আসর। অতিথিদের গাড়ী পার্কিংয়ের সুবিধায় রয়েছে নিরাপদ মোটর গ্যারেজ।

ভ্রমণ পিপাষু মানব মনের চাহিদার কথা ভেবেই নিরব নিস্তব্ধতায় দেশি বিদেশি নানা প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছের সমারোহে ফুটিয়ে উঠছে এসকএস ইন্ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইতোমধ্যে রিসোর্টে গড়ে উঠেছে বাবুইসহ নানান জাতের পাখির অভয়ারণ্য। সন্ধার সুর্যাস্তের আলোতে পাখির কিচির মিচির শব্দ মনে আবেগের দোলা দেয়। নিঝুম রাত্রি পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গানোর অপরূপ মুহূর্ত মনে যেন উৎফুল্লতার উষ্ণতা সৃষ্টি করে। তাই মুগ্ধতায় দর্শনার্থী অতিথির ভাষায় যেন বিন্দুর মাঝে সিন্দুর দর্শন। এসকেএস ইন্ এর ম্যানেজার তাইফুর কাদের জানান-গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রায় ২৩ হাজার দেশি বিদেশি দর্শনার্থী এসকেএস ইন্ এ আগমন ঘটে।

এবছর করোনার প্রভাবে কিছুটা কম হলেও আগামী দিনে উজ্জল সম্ভাবনাও অনুমান করা যাচ্ছে। আগামী দিনে উজ্জল সম্ভাবনা নিরিখেই এসকেএস ইন্ এর আবাসন ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) স্যামুয়েল হিলারী বলেন-এসকেএস ইন্ চার তারকা মর্যাদা নিয়ে গাইবান্ধা তথা উত্তরাঞ্চলের পর্যটন শিল্পে একটি মাইল ফলক। এমন ছোট জেলা শহরের পাশে চার তারকা মানের রিসোর্ট গড়ে তোলা অনেক সাহসের বিষয়। আমরা ভ্রমণ পিপাষু দর্শনার্থীর মনোচাহিদা নিরিখে সেবার মান বৃদ্ধি করে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র এবং পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে সরকারী রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখতে চাই।

অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পে সরকারিভাবে বরাবরই আমরা সীমাবদ্ধতার কথা শুনতে অভ্যস্ত। সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ থাকলেও এমন উদ্যোগ নিতে সাহস করে না। এমন অবস্থার মধ্যেও এসকেএস ইন্ গাইবান্ধা জেলার পরিচিতিকে একধাপ এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে কিছু পরিবারের কর্মসংস্থান। সময়ের সাথে মানুষের রুচির পরিবর্তনকেও নাড়া দিয়েছে। এই সকল বিবেচনায় বৈচিত্র্যপূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানালে উৎসাহের বিষয়টি আরও বেশি মজবুত হবে। এটি নিঃসন্দেহে জেলার ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভুমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews