1. admin3@gonomanuserkhobor.com : Admin3 :
  2. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  3. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
সুবর্ণজয়ন্তী অতঃপর আগামীর স্বপ্ন
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

সুবর্ণজয়ন্তী অতঃপর আগামীর স্বপ্ন

আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৩ বার পঠিত

ভারত বিভক্ত হওয়ার দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তান নামক সাম্প্রদায়িক আর সামরিক শাসনে রাষ্ট্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির জন্য দুর্বার আকাক্সক্ষায় বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝঁপিয়ে পরে শত্রুর মোকাবেলায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পূর্ব বাংলার প্রতি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিলো তা ধনী দরিদ্রসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মনে ঘৃনা আর ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। ফলে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলার মানুষের মনে স্বাধীনতার সংগ্রাম জাগ্রত হতে থাকে যার ফলশ্রæতিতে উদ্ভব হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। কথাটি অনেক পুরনো হলেও এর মর্মার্থ বাস্তবতার নিরিখেই। চারিদিকে বিচার বিশ্লেষণ সাপেক্ষে এমন কথা যে বলা হয়েছে তা বলা অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনতা ছাড়া মানুষ এই সমাজের অংশ হতে পারে না। পরাধীনতা শাসনের বিপরীতে শোষণ করে এটি সকলের জানা। তাই সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার বাস্তবতা থাকা জরুরী তবে তা নিদ্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। মনে রাখতেই হবে অতিমাত্রা স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সীমানা লংঘন কোন ক্রমেই সহনীয় নয়।

১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিমেয় অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।যা বাঙালী জাতি ৫০ বছর পূর্তী বা সুবর্ণজয়ন্তী হিসেবে পালন করলো। নিশ্চয়ই এটি যেকোন দেশের জন্য গৌরবের। তবে আনন্দের মাঝেও বিষাদের ছোয়া যেন আনন্দটাকে ম্লান করে দেয় কিছুটা। নিজের প্রাণকে বাজি রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দেশ স্বাধীন করতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দিতে আমরা এখনও ব্যার্থ। এখনও আমরা অর্থ লোভ লালসাকে পুষিয়ে রাখছি। ৫০ বছরে দেশে ব্যাপক পরিবর্তন হলেও আরও অনেক বেশি উন্নয়ন এবং অগ্রগতি সম্ভব ছিলো। এখনও দুর্নীতির আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আমাদের কে লজ্জায় মাথা নোয়াতে হয়। এখনও সেবায় নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কিছু অসাধু দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তার কারনে অনেক ভালো অর্জন মাঝে মধ্যে ¤øাণ হয়ে যায়। তবে এতো কিছুর মাঝেও আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। তবে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ আন্তরিক এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করলে হয়তো এই গতি আরও বেশি তরান্বিত হতে পারতো। পত্রিকার পাতায় প্রায়ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খবরে জানা যায় ত্রাণের উপকরণ চুরি, আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম, সঠিক সমীক্ষা না করে প্রকল্প অনুমোদনে অর্থ অপচয় এবং পরে কাজ শেষে কাজের সুফল ভোগ করবার সুযোগ নেই, নির্বাচনে কালো টাকার ছড়া ছড়ি, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন ভাবে দেশের আর্থিক খাতকে আরও বেশি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নেয়া সম্ভব ছিলো। আর সেটি সম্ভব করতে না পারা মানেই কাঙিত লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে থাকা। অর্থাৎ যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে এই ৫০ বছরে তার চেয়েও আরও বেশি হওয়ার সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত। কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে কিছু মানুষের দেশ প্রেমের অভাবে তা সম্ভব হয়ে ওঠা চ্যালেঞ্জিং। কথায় বলে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গ সর্বনাশ। এদিকে থেকে বোধহয় আমরা এখনও সমানে সমান।

বাংলাদেশের ৫০ বছরের সমীকরনে আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও আগামীর পথ পারিদিতে দেশকে সত্যিকারের সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেজন্য অবশ্যই প্রয়োজন দেশ প্রেমিক দায়িত্ববান কর্মকর্তা এবং দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক চর্চা। প্রজাতন্ত্রের নুন খেয়ে এখনও যখন কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাদের দায়িত্ব পালনে উদাসীন তাদেরকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। ৫০ বছরেও জনগনের সেবক তকমা নিয়ে সেবা করার ঘোষনা দিলেও ভিআইপি মনোভাবের যেন শেষ হয় না। সাধারণ মানুষকে করা হয় হেয়। তাই তো হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া মমুর্ষ রোগীর ভিআইপি’র আসার অপেক্ষায় অবশেষে রোগীর মৃতু। নিরানব্বই ভাগ মানুষের সময়কে পায়ে দলে ভিআইপির জন্য ট্রেন ছাড়তে সময় ক্ষেপণ, অফিসে সেবা নিতে গেলে এখনও শুনতে হয় বিরক্তিকর মনোভাব। এমন ঘটনা উন্নত দেশের বেলায় দেখা যায়কিনা পাঠক ভালো জানেন। এরকম ঘটনার সংখ্যা লিখতে গেলে লেখার কলেবর এতো বড় হবে যে পাঠকের বিরক্তি আসতে পারে।

সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য না হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে বড় ভাগ্যবান মনে হয়েছে। তবে গল্প, গান, কবিতা, নাটক, সিনেমা এবং ইতিহাস পড়ে পেছন ফিরে তাকালে কোটি কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশার ছবি সেই গল্পকে আরও বেশি ভাড়ী করে তোলে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তী আরও বড় হতে পারতো। কিন্তু হতাশা লাগে তখনই, যখন দেখি কিছু কিছু খাত যেমন-শিক্ষা,স্বাস্থ্য অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপাশি বানিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়লেও তা বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রসার ঘটেছে। অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অর্থলিপ্সার কারনে সরকারি উদ্যোগ গুণগত সফলতা অর্জনে ব্যার্থ হচ্ছে। এসকল চিত্র আমাদের আশাহত করে। ফলে এখনও তৃপ্ত হবার পরিস্থিতি কতটা নাগালের মধ্যে তা অনুধাবন করতে হবে।

দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। কিন্তু তার বেশিরভাগ অংশই কয়েক হাজার কোটিপতির নাগালের মধ্যেই ঘুরপাক করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রতিবেদনে জানা যায় এখনও দেশের অর্থ কালো টাকা হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে অনবরত। তবে হতাশার মাঝেও জাতিসংঘের জরিপে প্রাপ্তির আনন্দ হলো যে, প্রায় ২৩ বছর শোষণ আর বঞ্চনার পর ৭১-এর যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সেই শোষণকারী পাকিস্তানি রাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশ আজ অনেকগুলো সূচকে এগিয়ে থেকে প্রমাণ করেছে যে স্বাধীনতা বাঙ্গালীর জন্য কতটা প্রয়োজন ছিলো।

আজ বাংলাদেশ আপন জ্ঞান ও দক্ষতায় স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে মর্যাদায় ভূষিত। আমাদের বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল আর্থিক বিকশিত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। আমাদেরকে উন্নয়নশীল সূচকসমূহকে উৎসাহ হিসেবে দেখে আগামী দিনে সকল দুর্নীতিকে নির্মূল করে উন্নয়নের গতিকে আরও তরাত্বিত করতে হবে। যে খাত গুলো এখনও দুর্নীতির আখরায় পরিনত তাদেরকে কঠোর হাতে নির্মূলের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। সকল ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকগণ বাড়িতে বসে অথবা নিজের ডিভাইস ব্যবহার করে অন্যায়কারীর অন্যায় কাজের তথ্য তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অথবা আইন শৃঙ্খলায় দায়িত্বশীল কর্তার নিকট যেন পৌছে দিতে পারে তার সহজ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

স্বাধীনতার সুফল ভোগের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে আরও সমৃদ্ধশালী সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র উপহার দিতে এই প্রবাহকে বহমান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রবাহ অব্যাহত রাখতে পারলে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী স্বার্থক হবে। আর আগামীর প্রজম্ম দেখবে নতুন দিনের স্বপ্ন। আগামীর স্বপ্ন হোক আগামী প্রজম্মের জন্য মাথা উচুঁ করে দাড়াবার, গৌরবের সাথে এগিয়ে যাবার এটাই হোক প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews