1. admin3@gonomanuserkhobor.com : Admin3 :
  2. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  3. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
আমদানি নির্ভরতার খেসারত পণ্য মূল্যে অস্থিরতা
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

আমদানি নির্ভরতার খেসারত পণ্য মূল্যে অস্থিরতা

আশরাফুল আলম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২
  • ৪৫ বার পঠিত

বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধŸগতি। একাধারে বেঁড়েই চলেছে একের পর এক দ্রব্যের উচ্চমূল্য। এমন নজিরবিহীন উচ্চমূল্যের কারণে নি¤œ ও মধ্যবিত্তের মৌলিক চাহিদা তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় চাপে পড়েছে গরীব ও মধ্যবিত্ত মানুষ। এরকম অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষেপে বলা যেতে পারে -একটি নির্দিষ্ট সময়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াই হলো মূল্যস্ফীতি। অর্থাৎ বাজারে যখন মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায় কিন্তু পণ্য বা সেবার পরিমাণ একই থাকে তখনই মূল্যস্ফীতি হয়। মূল্যস্ফীতিতে টালমাটাল বিশে^র অনেক দেশ। নিদ্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ শ্রীলংকা মূল্যস্ফীতির কবলে অনেকদিন ধরেই টালমাটাল।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার স্বপ্ন পুরণের কাছাকাছি বাংলাদেশ। এমন সময় বৈশ^য়িক পরিস্থিতি এমন বিরুপ আচরণ করবে কেইবা জানতো। বৈশি^ক মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব, রাশিয়া ইউক্রেণ যুদ্ধ, জ¦ালানী তেলের উচ্চমুল্য, পরিবহন খরচের বৃদ্ধি হওয়াকে মুল কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেকেই। বেশ কিছু দিন থেকেই ধারনা করা হচ্ছিল দেশের মানুষকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি যে সহজ নয় তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কথায় আছে কোনো সংসার যদি অন্যকারো নির্ভরতায় চলে তবে সেই সংসার সংশ্লিষ্টদের ভালো বা খারাপ থাকা নির্ভর করে সেই কর্তা নির্ভর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের উপর। ঠিক আমাদের দেশের অবস্থা কিছুটা সেরকম। আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মূল্যবান সম্পদের ব্যবহার নির্ভর করে অন্যদেশের সরবরাহের উপর। বিষয়টি কেমন যেন অসহায় মনে হয়। আমরা নিজেদেরকে স্বয়ংসম্পুর্ণ দাবী করি। কিন্তু অর্থনীতির অনেক বড় অংশ পরনির্ভর আমদানির উপর। ফলে সেই সুফল আমরা ভোগ করতে পারছি না।

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ¦ালানী আমদানির পরিমাণ কমাতে হয়েছে ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে ব্যবহার শিথিল করার নানান পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের গুরুত্ব সর্বোচ্চ। সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয় জ¦ালানি তেল যা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বিদেশীদের ধার্যকৃত মূল্যে। এবার ভাবুন আমরা কতটা স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জনের অবস্থানে রয়েছি। জ¦ালানী তেলের দাম বেশি তাই বেড়েছে পরিবহন খরচ যার ফলে বেড়েছে নিত্তপণ্যের দামও।

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন নিত্তপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। এইসব পণ্য দেশে উৎপাদনের সঠিক পরিকল্পনা বা উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই যদি না হয় তবে লক্ষ লক্ষ আবাদী জমি পরিকল্পনাহীনভাবে দিনের পর দিন অব্যবহৃত হয়ে পরে থাকতেও দেখা যায়। যার ফলে দেশে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত পণ্যের দামেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ইতোমধ্যেই সরকার প্রধান একটুকরা জমিও ফেলে না রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের পরিকল্পনা কতটা স্বনির্ভর সেটিও দেখার বিষয়। চড়া দামের কারণে মানুষ জীবনযাত্রায় পণ্য ব্যবহার কমিয়েছে।

চাল, ডাল, তেল, চিনি কম ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও গরীব মানুষ কম খেতে বাধ্য হচ্ছে। এমনকি শিশু খাদ্য নিয়েও সংকটে পড়েছেন বহু মানুষ। নব্য ভুমিষ্ট শিশুর জন্য খাদ্য কিনতে আসা গৃহিনী লাভলী বেগম জানালেন- এক বছর আগেও তার পরিবারের বাজার খরচ ছিলো এখনকার চেয়ে অর্ধেক কিংবা তারও কম। তার কথার সুত্র ধরেই দেখা যায় গত এক বছরে মধ্যে গরুর মাংসের দাম একশ টাকা বেড়েছে। সয়াবিনের দামের গতি তা সবারই জানা। গরীবের প্রোটিন খাবার হিসেবে খ্যাত ডিমের দামেও আগুন। বাজারে এমন কোন পণ্য নেই যেটার দাম গত এক বছরে বাড়েনি। সেই বৃদ্ধিটাও ১/২ টাকা হলে কথা ছিলো। হালি/কেজি বা লিটারে ১০ থেকে ৩৯টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বৈশ্বিক বাজারের চেয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অনেক বেশি যা কষ্টদায়ক।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ার পরও পরনির্ভরতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছে না। অনেক বড় বড় বক্তব্য দেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। যদি তাই হয় তবে কেন বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি নির্ভর। যেমন- গমের কথা, দেশে যে পরিমান গম উৎপাদন হয় তা চাহিদার তুলনায় কম ফলে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে এই খাদ্যটি। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে গমের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ তার চাহিদার ৮০ শতাংশ গম আমদানি করে। এর অর্ধেক আসে ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে।

তেমনি পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনের ৬০ শতাংশ উপকরণ আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উপকরণ হচ্ছে ভুট্টা। আর সেই ভুট্টাও আমদানি নির্ভর দেশ রাশিয়া এবং ইউক্রেন। ফলে যুদ্ধের প্রভাব এড়ানোর সুযোগ নেই। সুতরাং তাদের যুদ্ধ আমাদের মরণ। দেশে গম এবং ভুট্টা উৎপাদনের পরিবেশ এবং আবহাওয়া দুটোই অনুকুলে। তারপরও কেন এই পণ্য উৎপাদনের ব্যাপক উদ্যোগ নেই বিষয়টির উপর স্বাভাবিকভাবেই অভিযোগের আঙ্গুল কৃষি বিভাগের দিকেই। এভাবে শুধু গম,ভুট্টা, ডিম নয় আরও অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলো আমাদের দেশের মাটিও জলবায়ু সহনশীল হলেও আমরা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে বহিবিশ^ থেকে আমদানিতে নির্ভর। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ হারে হারে বুঝতে পারছে পরনির্ভরতার পরিণতি।

করোনার প্রভাবে অনেক পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় তা সমন্বয়ের পথে হাটছিলো। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রায় পৌছার আগেই হু হু করে বেড়ে যাওয়া নিত্তপণ্যে মানুষ আবারও দিশেহারা। রাহেলা বেগম স্বামী হারা হয়ে দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে ছোট চাকুরী করে জীবন পারি দিচ্ছেন- জীবনযাপনের অবস্থা জিজ্ঞেস করতেই বল্লেন “কেমন ভাবে চলছি সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। উপরে দেখে সবাই মনে করে আমরা ভালো আছি। কিন্তু খরচ কুলাতে পারি না। তাই কাজের মেয়েকে দিয়েই টিসিবির পণ্য কিনে ব্যবহার করছি।

আগামী দিনের চিন্তুায় মাথা ভার”। ইতিতোমধ্যেই জাতিসংঘের বিশ^ খাদ্যকর্মসূচির হিসেবে করোনা মহামারির পর বিশে^ দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। এতে গরীব দেশ গুলোর পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশে^ জলবায়ু সংঘাতের কারনে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে বিভিন্ন নিত্তপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি মানুষের কষ্ট বাড়িয়েই চলেছে। তবে এর চুড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে ইউক্রেন যুদ্ধ কবে কিভাবে শেষ হবে তার ওপর।

এখন কথা হলো আমাদের দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলো কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাসমূহ দ্রুতই সমাধান করতে হবে। সেক্ষেত্রে যেসব ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরী তা হলো- চাহিদা সম্পন্ন পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মূলধনের গঠন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন সংক্রান্ত কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করা, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্বব্যবহার,

নিত্ত প্রয়োজনীয় খাতের অগ্রাধিকার ও সুষ্টু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘœসৃষ্টি বন্ধ এবং মজুদদারী বন্ধে অভিযান পরিচালনা, বাজার ব্যবস্থায় মনিটরিং জোরদার, রেমিটেন্স প্রবাহের গতি বৃদ্ধি করণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিকখাতসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের দুর্নীতি রোধ, দক্ষ উদ্যোক্তার সুযোগ তৈরী এবং কৃষি ও শিল্প খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের উদ্যোগসহ ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ। এসব উদ্যোগের সুফল হিসেবে পরনির্ভরতার পরিমাণ কমিয়ে আত্বনির্ভরতায় দেশ এগিয়ে যেতে পারে বলে আশা করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews