1. admin3@gonomanuserkhobor.com : Admin3 :
  2. smbipplob88@gmail.com : Masud Mukul : Masud Mukul
  3. newsbipplob2014@gmail.com : এস এম বিপ্লব ইসলাম : এস এম বিপ্লব ইসলাম
কাজ না করেই টিআর কাবিখার লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ-দেখার কেউ নেই
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

কাজ না করেই টিআর কাবিখার লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ-দেখার কেউ নেই

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২৪ বার পঠিত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি টিআর, কাবিখা ও কাবিটার কাজ না করেই টাকার বিনিময়ে বিল প্রদান ও ভাগবাটোয়ারার মাধ্যেমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে জানা যায়, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, আংশিক কাজ করে প্রকল্পের সমুদয় অর্থ উত্তোলন সহযোগিতা, এমনকি অন্য প্রকল্পের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তবে খাতা কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হলেও এসব প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না ওই সব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের ভেলাকোপা পূর্ব মধ্যপাড়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসাটি এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় নির্মাণকাজ চলছে। মাদ্রাসার ১০ গজ দূরে ভেলাকোপা পূর্ব মধ্যপাড়া জামে মসজিদ। মাদ্রাসাটির সংস্কার ও এ মসজিদের উন্নয়নে গেল ২০২১-২২ অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ করে দুই লাখ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের ব্যাপারে কিছুই জানেন না প্রতিষ্ঠান দুটির সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসাটির পরিচালক মো. আবদুল ওয়াহেদ ও ভেলাকোপা পূর্ব মধ্যপাড়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মোয়াজ্জিন আফসার আলী জানান, উপজেলা অফিসের এক ব্যক্তি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য। আর মসজিদের ইমাম জানান কোনো টাকাই পাননি তারা।

একই প্রকল্পে ওই ইউনিয়নের হরিনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বেঞ্চ সরবারহ বাবদ এক লাখ, হরিনাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়নে এক লাখ উত্তোলন করা হলেও ওই  ক্লিনিকের চিকিৎসক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানেন না তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প বা টাকা উত্তোলনের কথা। স্কুলে দেয়া হয়নি কোনো বেঞ্চও।

ওই প্রকল্পে হরিনাথপুরের মতো পার্শ্ববর্তী পবনাপুর ইউনিয়নের বালাবামুনিয়া বেলতুলি জামে মসজিদের অজুখানা সংস্কার, গেট ও বাউন্ডারি নির্মাণে তিন লাখ ৫৮ হাজার ১৪১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কোনো কাজই হয়নি সেখানে, মসজিদ কমিটি পাননি টাকা।

পার্শ্ববর্তী সমিতির হাট দুর্গা মন্দিরের সংস্কার দেখিয়ে ৯৭ হাজার উত্তোলন করা হলেও মন্দির কমিটি পেয়েছেন ১২ হাজার টাকা। মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমাড়গাড়ি পশ্চিমপাড়া বাইতুল মোস্তাকিম জামে মসজিদের সংস্কার বাবদ এক লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও মসজিদ কমিটি পাননি কোনো টাকা।

একই চিত্র সাদুল্লাপুর উপজেলার, অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়নে করা হয়েছে লুটপাট। টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১-২২ অর্থ বছরের ১ম পর্যায়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সংস্কার এবং মহিলা বিষয়ক অফিসে আইপিএস ক্রয়ে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ, পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা অফিসের পার্শ্বে সুরভী উদ্যান সংস্কারের জন্য ১ লাখ উত্তোলন করা হলেও কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি।

২য় পর্যায়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদে মহিলাদের প্রশিক্ষনের জন্য শেড নির্মান বাবদ ১ লাখ টাকা, সাদুল্লাপুর থানা কমপ্লেকে ফার্নিচার ক্রয় বাবদ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এসব প্রকল্পের।

তৎকালীন সাদুল্লাপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম এর সাথে যোগযোগ করলে তিনি জানান, আমি প্রকল্প সম্পর্কে কিছু জানিনা বা কোন আইপিএস আমাকে দেয়া হয়নি কিছু টাকা দেয়া হয়েছিল যা দিয়ে আমি অফিসের প্রিন্টার কিনেছি।

সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ প্রদীপ কুমার জানান, ৪/৫টি চেয়ার থানায় দেয়া হয়েছে তবে কোন প্রকল্পের বা কিসের টাকা তা আমি জানিনা।

এছাড়াও টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১-২২ অর্থ বছরের ১ম ও ২য় পর্যায়ে কিশামত দূর্গাপুর ঝাউলা বাজার অজুখানা নির্মানে ৯৫ হজার টাকা, মহিপুর বাজার দ্বিমুখী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের রং  করনে ১ লাখ টাকা,  জানিপুর মৌজার পশ্চিম পাড়া বাইতুন নুর জামে মসজিদের বারান্দা নির্মানে ৭৩ হাজার ২শ ৫২ টাকা,  উপজেলা ভুমি অফিস সংস্কার ৫০ হাজার টাকা, বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা সিসি করণ ২ লাখ, ব্ন গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষ টাইলস করন ও আসবাবপত্র ক্রয়ে ১লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও এসবের কোন কাজ হয়নি।

এমন অবস্থা পলশবাড়ি ও সাদুল্লাপুর দুই উপজেলার অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের টিআর এর পাশাপাশি লুটপাট হয়েছে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ। রাস্তা ঘষামাজা করে উত্তোলন করা হয়েছে বিল। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ এসব উন্নয়ন বরাদ্দ আত্মসাৎকারীর বিচার চান স্থানীয়রা।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম গেল ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে পলাশবাড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা না থাকায়, একই সঙ্গে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করেন।

টিআর ও কাবিখার অর্থ লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদ প্রচার হলে দেখা নেয়ার হুমকি দেন।

 অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান জানান, প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। প্রমাণ পেলে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে এ দুই উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকার (কাবিটা) ১৯৭টি প্রকল্প ও টেস্ট রিলিফের (টিআর) মাধ্যমে ৩৯৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় করা হয় ৫৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৭ টাকা এবং ৩৭২ টন চাল ও গম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | গণ মানুষের খবর

Theme Customized BY LatestNews