চরাঞ্চলে এসকেএস ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদার।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসকেএস ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ফসল সংরক্ষণাগার, ফুডব্যাংক, সমন্বিত শস্য ও প্রাণিসম্পদ খামার, মরিচ, ভুট্টা, বেগুন ও গম চাষের পাশাপাশি গাভীপালন, গরু মোটা তাজাকরণ, কবুতর, ছাগল পালন, দেশি মুরগি পালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘুরে ঘুরে দেখেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদার।
পিকেএসএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. নমিতা হালদার ফুলছড়ির নিলকুঠির চর, চর গোবিন্দি গ্রামের খামারি, কৃষক দল, বাজার সংযোগ কমিটি এবং তাদের উৎপাদিত ফসল ও পণ্য বাজারজাত করণের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কথা বলেন।
কার্যক্রমের, সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে নারী কর্মীদের সাথেও তিনি উঠান বৈঠক করেন। এসময় এসকেএস ফাউ-েশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন এবং সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফুলছড়ি উপজেলার নীলকুঠির চরের নাছিমা বেগম বলেন, দূর্গম চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণাগার, ফুডব্যাংক স্থাপন এবং সমন্বিত শস্য ও প্রাণী সম্পদ খামার স্থাপন করায় চরবাসীর সুবিধা হয়েছে। কারণ প্রতিবছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের অভাবে কম দামে ফসল বিক্রি করে কৃষকদের ক্ষতির মধ্যে পরতে হতো। বর্তমানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় কৃষকরা এর সুবিধা পাচ্ছে।
দক্ষিণ গোবিন্দীপাড়ার ফুটব্যাংক পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোছা: শেফালী বেগম জানান, বন্যাসহ যেকোন দুর্যোগে জরুরী খাবার সহায়তায় স্থাপিত ফুডব্যাংক এলাকায় বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে এখন এই এলাকায় ফুডব্যাংক কাযক্রমের প্রসার ঘটেছে। দুর্দিনে চর অথবা নদীপারের মানুষের দুর্যোগকালীন খাবারের কিছু অংশ পূর্ণ করতে সক্ষম এই ফুডব্যাংক কার্যক্রম।
এ প্রসঙ্গে এসকেএস ফাউ-েশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন বলেন, চরে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে এসকেএস ফাউন্ডেশন চর-অধ্যুষিত গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪টি চরে ফসল সংরক্ষণাগার স্থাপন করেন। এছাড়াও বন্যা কবলিত সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৫টি গ্রামে ৬২৪টি পরিবার ফুডব্যাংকের আওতায় খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, চরের মানুষ হচ্ছে ভাসমান, আজ যেখানে আছে, কালকে সেখানে নেই। চওে যে ধরণের ফসল দুই থেকে তিন মাস পর পর উঠে যায় সেসব ফসলের দিকে আমাদের নজর। এই চরের যে বৈশিষ্ট এরকম স্বল্পকালিন ফসলের মধ্যেই থাকতে চাই। আমি নতুন করে যে সম্ভবনা দেখলাম তা হচ্ছে ভার্মিকম্পোজ। এটা হলে কেমিকেল সারের খুব কম প্রয়োজন হবে।
এজন্য এসকেএস ফাউন্ডেশনকে আগামীতে ভার্মিকম্পোজ নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা চাই যে এসকেএস পিকেএসএফ-এর সঙ্গে কাধেকাধ মিলিয়ে কাজ করুক। জানা গেছে, পরিদর্শনের ২য় দিনে ড. নমিতা হালদার এসকেএস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগ সমুহ পরিদর্শন এবং সংস্থার উধ্বর্তন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে কর্মসূচি ভিত্তিক বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।